প্রাণীজগত নিয়ে মজার তথ্যের কোন শেষ নেই, জানা অজানা কতকিছু নিয়ে প্রাণী জগত।এমনি কিছু মজার তথ্য আজ আমি আপনাদের জানাবো, তো চলুন শুরু করি আজকের ভিডিও ব্লগ
ঘোড়া কেন দাঁড়িয়ে ঘুমায়?
ঘোড়া দাঁড়িয়ে ঘুমায়- এ তথ্য আমাদের প্রায় সবারই হয়তো জানা। কিন্তু অন্য সব প্রাণী যেখানে বসে বা শুয়ে ঘুমায়, সেখানে ঘোড়া কেন বা কীভাবে দাঁড়িয়ে ঘুমায়- সেকথা কি কখনো জানতে ইচ্ছে হয়েছে?
ঘোড়া মূলত আত্মরক্ষার জন্য দাঁড়িয়ে ঘুমায়। কথাটা শুনে অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ার কিছু নেই।ঘোড়ার শরীর খুব ভারী। পিঠ একদম সোজা। তাই একবার বসলে অন্য প্রাণীর তুলনায় তাদের উঠতে অনেকটা বেশি সময় লাগে। তাই বসা অবস্থায় যদি হঠাৎ কেউ এসে আক্রমণ করে, তাহলে দাঁড়াতেই অনেকটা সময় লেগে যায় ওদের, দৌড়াতেও অনেক দেরি হয়ে যায়। ততক্ষণে আক্রমণকারী ঘোড়াটাকে আক্রমণ করে বসতে পারে। সেজন্যই ঘোড়ারা দাঁড়িয়ে ঘুমায়।পায়ের বিশেষ ক্ষমতা থাকায় ঘুমানোর সময় হাঁটু শক্ত করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে ঘোড়া, যে কারণে ঘুমন্ত অবস্থায় তারা পড়ে যায় না।
ঘোড়া কিন্তু কোনো রকম ক্লান্তি ছাড়াই অনেক লম্বা সময় দাঁড়িয়ে কাটিয়ে দিতে পারে। তাই অনায়াসেই দাঁড়ানো অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়তে পারে তারা।
তবে ঘোড়া অধিকাংশ সময় দাঁড়িয়ে ঘুমায় মানে কিন্তু এই না যে তারা বসে ঘুমাতে পারে না বা ঘুমায় না। মাঝেমধ্যে পায়ের বিশ্রামের জন্য বসে বসেও ঘুমায়। এমনকি শুয়েও ঘুমায়।
বাজপাখি তার মাঝ বয়সে ডানা ঠোঁট ও নখ ভেঙ্গে ফেলে কেন?
বাজপাখি প্রায় ৭০ বছর জীবিত থাকে, অথচ ৪০ আসতেই ওকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই সময়ে তার শরীরের ৩টি প্রধান অঙ্গ দূর্বল হয়ে পড়ে ১, পায়ের নখ ২, ঠোঁট ৩,ডানা
ফলস্বরূপ শিকার খোঁজা, ধরা ও খাওয়া ৩টি কাজই বাজপাখির জন্য ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তার জন্য ৩টি পথ খোলা থাকে। ১,আত্মহত্যা ২,শকুনের মতো মরা খাওয়া ৩, নিজেকে নতুন করে তৈরি করা।
বাজপাখি একটি উঁচু পাহাড়ে বাসা বাধে আর শুরু করে নতুন করে বাঁচার প্রচেষ্টা। সে প্রথমে পাথরে বাড়ি মেরে মেরে তার ঠোট ও নখগুলি ভেঙ্গে ফেলে। তারপর অপেক্ষায় থাকে নতুন নখ ও ঠোট গজানোর। নখ ও ঠোট গজালে বাজপাখি ডানার সমস্ত পালকগুলি ছিঁড়ে ফেলে। প্রচন্ড কষ্ট সহ্য করে সে অপেক্ষায় থাকে নতুন পালকের।সব মিলিয়ে ১৫০ দিনের কঠিন পরীক্ষার পর বাজপাখি ফিরে পায় তার নতুন জীবন.. হয়ে উঠে আগের চাইতেও ক্ষিপ্র ও চৌকশ।
টিকটিকির লেজ খসে পড়ে কেন এবং পড়ে লাফায় কেন?
টিকটিকির লেজ খসে পড়ার দৃশ্য দেখেননি এমন মানুষ পাওয়া বোধ হয় কঠিন। দৃশ্যটা চমকপ্রদই বটে। ঝাড়ু দিয়ে দেয়াল পরিষ্কার করার সময় প্রায়ই ঘটে এটা। এ ছাড়া টিকটিকি তাদের লেজ খসায় যেকোনো শিকারি প্রাণীর খপ্পরে পড়লেই। এ ক্ষেত্রে তাদের প্রধান শত্রু পাখি আর বিড়াল। টিকটিকি কেন লেজ খসায়? এর উত্তর খোঁজার জন্য বিজ্ঞানীরা বিস্তর গবেষণা করেছেন। ঘেঁটেঘুঁটে দেখেছেন, টিকটিকির শরীরের অন্যান্য অংশের চেয়ে লেজটা ভীষণ দুর্বল। ফলে এটা নিশ্চিত যে টিকটিকির লেজ খসে পড়ার বিষয়টি কোনো দুর্ঘটনা নয়। বিপদে পড়ার পরও এদের লেজ শরীরের সঙ্গেই লেগে থাকে। কিন্তু তখনই খসে পড়ে, যখন লেজের ভেতরের কোষগুলো বিশেষ এক রাসায়নিক পদার্থ উৎপাদন করে। এই রাসায়নিক হরমনের প্রভাবেই ঘটে অদ্ভুত কাণ্ডটা।মজার ব্যাপার হলো, খসে পড়ার পরও কিন্তু লেজটা লাফালাফি করতেই থাকে।
টিকটিকির লেজ খসে পড়ে লাফায় কেন? শিকারি আক্রমনের সাথে সাথেই টিকটিকি লেজটা খসিয়ে পগার পার। এখন শিকারি প্রাণী কিছুক্ষণের জন্য হলেও বিভ্রান্ত হয়ে যায়। টিকটিকিটাকে ধরবে, নাকি তার জ্যান্ত লেজকে? টিকটিকির কাছে লেজ খসানো নিজেকে বাঁচানো কিংবা প্রাণ বাঁচানোর অন্যতম এক অস্ত্র।একটা লেজ রেখে শত্রুকে ধোকা দিয়ে পালানোর এ কৌশলকে বলা হয় Caudal Autotomy.
লেজের এভাবে নড়াচাড়া কারণ হচ্ছে লেজে সৃষ্ট কিছু নার্ভ ইমপাল্স যেটা লেজের পেশীকে নড়াচড়ার সংকেত দেয় । বিচ্ছিন্ন লেজ এলোমেলো ভাবে নড়াচড়া করতে থাকে আর শিকরী সেদিকে মনযোগী হয়, এই সুযোগে সে পালিয়ে যায় ।বেচেঁ থাকার দারুণ এক কৌশল।
তারপর লেজটা কীভাবে গজায়? স্তন্যপায়ীর মতো টিকটিকির স্নায়ুরজ্জু পিঠেই শেষ হয়ে যায় না বরং লেজ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। তার মানে হলো যখন টিকটিকি লেজ পুনর্জন্মানোর প্রক্রিয়া শুরু করে তখন সেই সাথে স্নায়ুরজ্জুও বৃদ্ধি পেতে হয়। ধুর্ত এই সরীসৃপগুলো স্নায়ুরজ্জুতে রেডিয়াল গ্লিয়া নামক এক বিশেষ ধরনের স্টেম কোষ থাকে। এই কোষগুলো সব মেরুদন্ডী প্রানীর মধ্যেই পাওয়া যায় এবং প্রানীর প্রাথমিক স্নায়ুতন্ত্র গঠন করে, কিন্তু এরপরই নিশ্চুপ হয়ে যায়।তবে যখন টিকটিকির লেজ খসে যায় তখন অন্য কোনো কিছুর প্রণোদনায় এরা আর নিশ্চুপ থাকে না বরং সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরা নতুন কিছু প্রোটিন তৈরি করে এবং দ্রুত সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়। ফল এক পর্যায়ে গিয়ে স্নায়ু রজ্জু মেরামত হয়ে যায়।এভাবেই গঠিত হয়ে যায় নতুন লেজ।

Leave a Comment